হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে সমকাল পত্রিকার সাংবাদিক এম.এ আহমদ আজাদের নামে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দৈনিক সমকালের উপজেলা প্রতিনিধি, সিনিয়র সাংবাদিক ও নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এম.এ আহমদ আজাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৫ (পূর্বে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন) এর আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (৮ নভেম্বর) রাতে নবীগঞ্জ উপজেলার গোপলারবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শেখ মারজান আহমেদ নবীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় সাংবাদিক আজাদসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলাটি নবীগঞ্জ থানার ওসি শেখ কামরুজ্জামান রাত ১টার দিকে এফআইআরভুক্ত করেন। তিনি জানান ডিজিটাল সুরক্ষা আইনের দুটি ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। সাংবাদিক আজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ফেসবুকে ঘটনাটির ভিডিও প্রচার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছেন।

তবে বাদী শিক্ষক শেখ মারজান আহমেদ বলেন ভিন্ন কথা, আমি আসলে মামলা করতে চাইনি। শুধু একটি সাধারণ ডায়েরি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী মহলের চাপে পড়ে আমাকে মামলা দায়ের করতে হয়েছে।
ঘটনাটির পটভূমি: গত বুধবার (৫ নভেম্বর) নবীগঞ্জ উপজেলার গোপলারবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক শেখ মারজান আহমেদ দুই ছাত্রীকে প্রাইভেট না পড়ার কারণে বেত্রাঘাত করেন।
ঘটনা জানাজানি হলে বিদ্যালয়ে এক সালিশি বৈঠক ডাকা হয়, যেখানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ওই শিক্ষককে প্রকাশ্যে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে হয়। এই ঘটনার ভিডিও “গ্রামবাংলা 24 TV” নামের একটি ফেসবুক পেজে ভাইরাল হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এক শ্রেণির ব্যক্তি বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে এবং সাংবাদিক আজাদকে শিক্ষক হেনস্থাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে প্রচারণা শুরু করে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের একটি দলকে উসকানি দিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই দফা অবরোধ করানো হয়।
অবরোধ চলাকালে প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।
সালিশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পিআইও শাকিল আহমেদ, দেবপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আ.খ.ম ফখরুল ইসলাম এবং এনসিপি কর্মী পরিচয়ধারী আরিফ উদ্দিন তালুকদার।

তাদের মধ্য থেকেই অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিকের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভ ও নিন্দা: এম.এ আহমদ আজাদের নামে মামলা দায়েরের ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলার সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে খর্ব করার একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা।

প্রেসক্লাবের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, যখন একজন শিক্ষককে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়, তখন দায়ী কে? সংবাদ প্রকাশ করলেই কি সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হবে? তারা বলেন, এ মামলা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের এক নোংরা প্রচেষ্টা, যা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *