স্বীকৃতিতে সাংবাদিক এগিয়ে, পিছিয়ে ফেসবুক আইডিধারী/ব্লগাররা- তথ্য প্রদানে সাবধান!

মিয়া সুলেমান, ময়মনসিংহ থেকে

তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিক ও ফেসবুক আইডিধারী/ব্লগারের মধ্যে আইনগত পার্থক্য স্পষ্ট। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিক ও ফেসবুক আইডিধারী/ব্লগারের মধ্যে আইনগত অবস্থান ও অধিকার নিয়ে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও আইনি কাঠামোর কারণে সাংবাদিকরা সুবিধা পেলেও ফেসবুক আইডিধারী/ব্লগাররা সাধারণ নাগরিক হিসেবেই তথ্য সংগ্রহ করেন।
তাই, সাংবাদিকের কাজ যদি ফেসবুক আইডিধারী/ব্লগাররা সম্পন্ন করতে গিয়ে বাঁধার সম্মূখীন হয়। এই ক্ষেত্রে জনসাধারণ বেশ সচেতন।

সাংবাদিকরা সাধারণত স্বীকৃত গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত থাকেন এবং প্রেস কার্ড বা সরকারি অনুমোদন পান। এর ফলে সরকারি দপ্তর, প্রেস ব্রিফিং, আদালত বা সংসদের মতো সংবেদনশীল স্থানে প্রবেশের সুযোগ সাংবাদিকদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ হয়। পাশাপাশি তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী সাংবাদিকদের তথ্য চাওয়ার আবেদন অনেক সময় অগ্রাধিকার পায়।

অন্যদিকে ফেসবুক আইডিধারী/ব্লগাররা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করে এবং তাদের আলাদা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা সরকারি স্বীকৃতি থাকে না। ফলে তারা তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সাধারণ নাগরিক হিসেবে তথ্য চাইতে পারলেও সাংবাদিকদের মতো বিশেষ সুবিধা পান না। এ ক্ষেত্রে সাংবকদিকের কাজ সাংবাদিককেই করতে হয়। বিষয়টি সর্বসাধারণ জানা আবশ্যক।

আইন সূত্র মতে, সোর্স সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বড় পার্থক্য রয়েছে। সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার নৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষাও দেখা যায়। তবে ফেসবুক আইডিধারী/ব্লগারদের জন্য এ ধরনের সুনির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা নেই; আদালত চাইলে তাদের সোর্স প্রকাশে বাধ্য করতে পারে।

দায়বদ্ধতার প্রশ্নেও পার্থক্য লক্ষণীয়। সাংবাদিকরা সম্পাদকীয় নীতিমালা ও প্রতিষ্ঠানিক তত্ত্বাবধানে কাজ করেন, ফলে কোনো আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানও দায় নিতে পারে। কিন্তু ফেসবুক আইডিধারী/ব্লগাররা ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ থাকে এবং মানহানি, গোপনীয়তা লঙ্ঘন বা ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় সরাসরি তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল যুগে ব্লগারদের ভূমিকা বাড়লেও আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে তারা অবৈধ যেখানে সাংবাদিকগণ বৈধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *