মিয়া সুলেমান, ময়মনসিংহ থেকে
ঈশ্বরগঞ্জের শান্তশস্য-সবুজ গ্রাম আঠারবাড়ী আজ যেন জেগে উঠেছিলো নতুন আলোয়। ৭ ডিসেম্বর— “আঠারবাড়ী মুক্ত দিবস”, স্বাধীনতার স্মৃতিময় দিন। এই উপলক্ষে স্থানীয় সংগঠন ‘আমাদের আঠারবাড়ী’ আয়োজন করে দিনব্যাপী বিজয় উৎসব, আর ভোর থেকেই চারপাশে যেন প্রতিধ্বনি তোলে বিজয়ের গান—
“যেখানে বিজয়ের পতাকা উড়ে,
সেখানে মানুষ হয় আলোর যাত্রী…”
বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিনের সম্মানে আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে সকাল থেকেই এলাকায় ছিলো আনন্দ-উচ্ছ্বাস। মানুষের পদচারণায় মুখরিত ছিলো আঠারবাড়ী মহিম চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের বিস্তীর্ণ খেলার মাঠ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন লুফফুল্লাহেল মজেদ বাবু, আহ্বায়ক, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি। আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন ভুঁইয়া, সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম খান মনি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকাবাসী।
জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা। সঙ্গীত বাজতেই মাঠজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ নীরব হয়ে সম্মান জানায় শহীদদের প্রতি।
মুহূর্তটি যেন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল—
“রক্তে লেখা স্বাধীনতা,
নীরবে বলে জাতির কথা…”
দিনব্যাপী আলোচনায় উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, স্থানীয় শহীদদের আত্মত্যাগ ও ইতিহাসের অনন্য গৌরবগাঁথা। নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার চেতনা পৌঁছে দিতে আয়োজন করা হয়— আলোচনা সভা, গ্রামীণ খেলা ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আবৃত্তি ও স্মৃতিকথা।
আয়োজক কমিটি জানায়, এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতি বছরের মতো এবারও অনুষ্ঠান সফল করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিলো।
দিন শেষে বিভিন্ন খেলায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিজয়ের আনন্দ, স্বাধীনতার গর্ব আর প্রজন্মের উচ্ছ্বাসে উৎসবটি রঙিন হয়ে ওঠে।
শেষমেশ আঠারবাড়ীর আকাশে যেন প্রতিধ্বনিত হয় শুধুই এক সুর—
“দেশমাতৃকার জয়গান গাই,
বিজয়ের পতাকা উঁচিয়ে রাখি—
আমরা গর্বিত, আমরা স্বাধীন বাংলাদেশি।”
