শিক্ষক গণজমায়তে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড, দাবি আদায়ে তারা এখন কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে

মিয়া সুলেমান

শিক্ষকতা নিঃসন্দেহে একটি মহান পেশা— জাতি গঠনের কারিগর হিসেবে শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু বাস্তব চিত্র আজ উদ্বেগজনক। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির এই সময়ে দেশের অসংখ্য শিক্ষক পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এ অবস্থায় ন্যায্য অধিকার ও দাবি আদায়ে শিক্ষকেরা প্রায়ই রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছেন। বেতন বৈষম্য নিরসন, পদোন্নতি, টাইম-স্কেল ও বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছেন। তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন— “শিক্ষকের স্থান কি রাজপথে, না শ্রেণিকক্ষে?”

জাতি গঠনের এই মহান পেশাজীবীদের মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন শিক্ষকেরা। তাদের মতে, শিক্ষকদের মুখে হাসি ফিরলে তবেই জাতি প্রকৃত অর্থে আলোর পথে অগ্রসর হতে পারবে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলনে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড- রোববার (১২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরাতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড (শব্দ বোমা) নিক্ষেপ করে। মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে সকাল থেকে শিক্ষকরা এই কর্মসূচি পালন করছিলেন।

দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে পুলিশ শিক্ষক আন্দোলনকারীদের দিকে অগ্রসর হলে শব্দ বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় শিক্ষকরা পুলিশকে উদ্দেশ করে “ভুয়া ভুয়া” স্লোগান দিতে থাকেন।

শব্দ বোমা নিক্ষেপের পর শিক্ষকরা সাময়িকভাবে সরে গেলেও কিছুক্ষণ পরই পুনরায় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন। মাইকে শিক্ষক নেতারা সবাইকে শান্ত থাকার ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সরকারের সঙ্গে আলোচনা- দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অর্থ উপদেষ্টা ও সচিবের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে সচিবালয়ে যান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, যুগ্ম সদস্য সচিবসহ আরও অনেকে।

আজ সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান কর্মসূচি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ। এর আগে গত ১৩ আগস্ট একই দাবিতে তারা প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

বেতন বৈষম্য ও আর্থিক বাস্তবতা- ২০২৩ সালের শেষের দিকে সরকার তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে ১২ হাজার ৫০০ টাকা, যা ২০২৪ সাল থেকে কার্যকর হয়েছে। মাস শেষে অতিরিক্ত ডিউটি ও ভাতা মিলিয়ে একজন পোশাককর্মীর আয় দাঁড়ায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায়।

অন্যদিকে, দেশের বহু সহকারী শিক্ষক মাস শেষে পান ১৫ হাজার টাকারও কম বেতন— অথচ তারা অনার্স, মাস্টার্স কিংবা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন। এই বৈষম্যকে শিক্ষক সমাজ “অন্যায্য ও প্রহসনমূলক” বলে দাবি করছেন।

সচেতন মহলের আহ্বান ও শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি অনুরোধ— শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা ও প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দিয়ে তাদের শ্রেণিকক্ষে ফেরানো হোক। কারণ, শিক্ষকের মুখে হাসি ফিরলেই জাতি আলোর পথে এগিয়ে যেতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *