মেসির ইন্টার মায়ামিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে লিগস কাপ জিতল সিয়াটল সাউন্ডার্স

গণমঞ্চ নিউজ ডেস্ক –

লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে লিগস কাপের শিরোপা জিতেছে সিয়াটল সাউন্ডার্স। রোববার (৩১ আগস্ট) লুমেন ফিল্ডে অনুষ্ঠিত ফাইনালের শেষ বাঁশির পর মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ইন্টার ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ প্রতিপক্ষ দলের এক কোচের দিকে থুতু নিক্ষেপের অভিযোগে অভিযুক্ত হন।

২৬ মিনিটে ওসাজে দে রোসারিওর গোলে এগিয়ে যায় সাউন্ডার্স। দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করেন অ্যালেক্স রোলদান এবং ৮৯ মিনিটে পল রথরকের গোল নিশ্চিত করে সিয়াটলের জয়সূচক ব্যবধান। মেসিকে নিয়ে সাজানো ইন্টারের আক্রমণভাগ ম্যাচজুড়ে সাউন্ডার্সের রক্ষণভাগের কাছে ব্যর্থ হয়।

শেষ বাঁশির পর হতাশ ইন্টার খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সুয়ারেজের উসকানিতে শুরু হওয়া ধস্তাধস্তিতে তাঁকে সাউন্ডার্সের এক সহকারী কোচের দিকে থুতু ছুড়তে দেখা যায় বলে সম্প্রচারচিত্রে ধরা পড়ে।

১৬ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় মায়ামির ৪৬ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারের দলে খেলে সাউন্ডার্স ইতিহাস গড়েছে। তারা প্রথম এমএলএস ক্লাব হিসেবে উত্তর আমেরিকার সব প্রধান ট্রফি জয়ের রেকর্ড গড়ল। তাদের ঝুলিতে আছে দুটি এমএলএস কাপ, একটি সাপোর্টার্স শিল্ড, চারটি ইউএস ওপেন কাপ এবং একটি কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপ।

লিগস কাপ জয়টি বিশেষ হয়ে থাকল মেসির উপস্থিতির কারণে। ম্যাচ শেষে সাউন্ডার্স কোচ ব্রায়ান শ্মেটজার বলেন,
“এটা অনেক বড় সাফল্য। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় মেসিকে নিয়ে গড়া দলের বিপক্ষে আমাদের ছেলেরা দুর্দান্ত লড়াই করেছে।”

ম্যাচে রোসারিওর প্রথম গোলেই সিয়াটল সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। খেলার শুরুতেই তার হেড মায়ামি গোলকিপার অস্কার উস্তারি রুখে দিয়েছিলেন। ম্যাচ শেষে রোসারিও বলেন,
“এটা অবিশ্বাস্য, স্বপ্নের মতো। আমি মেসিকে হারালাম ফাইনালে!”

৬৯ হাজার ৩১৪ দর্শক উপস্থিত থেকে ম্যাচটি উপভোগ করেন, যা লিগস কাপ ও সাউন্ডার্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দর্শকসংখ্যার রেকর্ড।

২০২৩ সালে মেসির যোগদানের পরই লিগস কাপ জিতেছিল ইন্টার মায়ামি। এবারের ফাইনালে যদিও বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল দলটি, কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে মেসি ও তাদেও আলেন্দে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন।

৮৪ মিনিটে রোলদানের পেনাল্টি সিয়াটলকে নিরাপদ ব্যবধান এনে দেয় এবং রথরকের শেষ মুহূর্তের গোলে নিশ্চিত হয় শিরোপা।

দুই দলই আগামী ২০২৬ কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে। তবে শিরোপা জয়ের সুবাদে সিয়াটল সরাসরি শেষ ষোলতে খেলার সুযোগ পেল, যা ২০২৯ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের টিকিটের লড়াই নির্ধারণ করবে।

অন্যদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সি ২-১ গোলে অরল্যান্ডো সিটিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স কাপে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *