গণমঞ্চ ডেস্ক নিউজ
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ মাউশির মহাপরিচালক পদে আগ্রহী অধ্যাপক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরদিনই (মঙ্গলবার) তিনি অব্যাহতির আবেদন করেন।
অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খান তাঁর আবেদনে লিখেছেন, “স্বাস্থ্যগত কারণে দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই আমি মহাপরিচালক পদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন করছি।”
বক্তব্য জানতে মন্ত্রণালয়ের সচিব রেহানা পারভীন এবং অধ্যাপক আজাদ খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। তবে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অধ্যাপক আজাদ খানের আবেদনটি সচিবের দপ্তরে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
‘অপমানিত’ বোধ থেকে পদত্যাগ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা ও মাউশির একজন পরিচালক মঙ্গলবার রাতে সমকালকে নিশ্চিত করেছেন যে অধ্যাপক আজাদ খান আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
মাউশির ডিজির দপ্তরের দুই কর্মচারীও পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সোমবার (৬ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ মাউশির মহাপরিচালক পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের ১৬তম ও তদূর্ধ্ব ব্যাচের অধ্যাপক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা সাত কর্মদিবসের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীকে ‘সৎ, দায়িত্বপরায়ণ ও প্রশাসনিক কাজে দক্ষ’ হতে হবে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের স্বাক্ষর থাকতে হবে।
এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষা প্রশাসনে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। মাউশির এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“একজন মহাপরিচালক দায়িত্বে আছেন, অথচ তার মেয়াদ শেষ না হতেই নতুন করে আবেদন চাওয়া হয়েছে—এটা মাউশির ইতিহাসে নজিরবিহীন। এতে বর্তমান ডিজি অপমানিত বোধ করেছেন বলেই পদত্যাগ করেছেন।”
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে। এর নয়টি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং জেলা পর্যায়ে শিক্ষা অফিস রয়েছে।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খান মাউশির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সাধারণত শিক্ষা ক্যাডারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে মন্ত্রণালয় অভ্যন্তরীণভাবে পদায়নের মাধ্যমে ডিজি নিয়োগ করে থাকে। কিন্তু এবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগের পথ বেছে নেওয়ায় বিষয়টি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
