গণমঞ্চ নিউজ ডেস্ক –
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই কঠোর যে তাঁর জীবনযাপনকে অনেকেই “অভেদ্য সুরক্ষা বলয়” বলে অভিহিত করেন। দৃশ্যমান ও অদৃশ্য, উচ্চ প্রশিক্ষিত রক্ষীদের নিয়ে গঠিত তাঁর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীকে পরিচিত করা হয় ‘মাস্কেটিয়ার’ নামে। এরা রাশিয়ার ফেডারেল প্রটেকটিভ সার্ভিসের একটি বিশেষ ইউনিটের সদস্য।
বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এ নেতা সবসময় বহন করেন ‘চেগেট’ নামের একটি বিশেষ ব্রিফকেস, যা মূলত পারমাণবিক আক্রমণ সংক্রান্ত জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ। নিরাপত্তা রক্ষীদের জন্য বাছাই প্রক্রিয়ায় শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং যেকোনো পরিবেশে অভিযোজনের ক্ষমতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুতিনের ভ্রমণসূচি অনুযায়ী মাসখানেক আগে থেকেই তাঁর টিম গন্তব্যস্থলে নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু করে। তাদের কাছে থাকে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, জ্যামিং ডিভাইস ও নজরদারি সরঞ্জাম। প্রেসিডেন্টের বহরে ব্যবহৃত হয় ভারী সাঁজোয়া যান এবং বিলাসবহুল নিরাপদ গাড়ি ‘অরাস সিনেট’।
খাবারের ক্ষেত্রেও নেওয়া হয় বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রান্নার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে টেবিলে পরিবেশন পর্যন্ত সবকিছু তদারক করেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। বিদেশ সফরে গেলে প্রেসিডেন্টের জন্য আলাদাভাবে পাঠানো হয় লবণ, গোলমরিচ, টমেটো সস, পানি ও ন্যাপকিন।
সবচেয়ে আলোচিত নিরাপত্তা সতর্কতার মধ্যে একটি হলো প্রেসিডেন্টের শারীরিক বর্জ্য সংরক্ষণ। বিদেশ সফরের সময় পুতিনের নিরাপত্তা টিম বিশেষ স্যুটকেস ব্যবহার করে তাঁর মলমূত্র সংগ্রহ করে তা রাশিয়ায় ফিরিয়ে আনে। ধারণা করা হয়, এর উদ্দেশ্য হলো প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো গোপন তথ্য যাতে বিদেশি শক্তির হাতে না পৌঁছায় তা নিশ্চিত করা।
