নির্বাচনের আগে আ.লীগের কিছু নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হতে পারেঃ গোলাম মাওলা রনি

সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি শনিবার (১১ অক্টোবর) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত বক্তৃতায় বলেছেন যে, সর্বস্তরে চলছে একটি গুঞ্জন: খুব দ্রুতই আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে। তিনি বলেন, এই ধরনের কথাবার্তা যখন জনগণের মুখে মুখে চলে আসে তখন তা বাস্তবে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়।

গোলাম মাওলা রনি তার ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘‘একটি বিষয় মানুষের মুখে মুখে ফুটছে—খুব দ্রুতই আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে। এটি বর্তমানে ব্যাপকভাবে আলোচনা হচ্ছে।’’ তিনি মন্তব্য করেন, অতীতে জনগণের মুখে যে কথাগুলো ঘুরছে সেগুলো কোনো কোনও সময়ই বাস্তবে পরিণত হয়েছে; ২০২২–২৩ সালে এমনই একটি পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল, যখন কিছু মানুষ বলেছিল যে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবে এবং আওয়ামী লীগের পতন হবে। তখন দলের নেতারা বলেছিলেন, ‘‘আমরা পালাই না, আমরা পালাব না, আমরা ভয় পাই না।’’

গোলাম মাওলা রনি আরও বলেন, বর্তমান সময়েও মানুষের মুখে নানা ধরণের বক্তব্য বের হচ্ছে—কেউ বলছেন ড. ইউনূস ভালোভাবে সরকার পরিচালনা করতে পারবেন না, কেউ বলছেন উপদেষ্টারা পালাতে পারবেন না—এমনিভাবে বিভিন্ন কল্পনা ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘‘এই কথাগুলো মানুষের মুখে মুখে ফিরছে; এগুলো কীভাবে বন্ধ করা যাবে—এ বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।’’

সংবাদটিতে ভারতের বিচারপ্রক্রিয়া বা আইনগত বাস্তবতা নিয়ে কোনো নিশ্চিত ব্যাখ্যা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। রনি বলেন, ‘‘কীভাবে হবে, কবে হবে; আমরা জানি না। এটা কীভাবে সম্ভব, আইনগতভাবে সম্ভব কি না—এসব আলোচনা হচ্ছে না; তবু মানুষের মুখে বের হচ্ছে যে নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে।’’ তিনি বলেন যে মাঝে মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু নামও জনমুখে এসেছে; যেমন—সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু ও পলক—তবে এর বাইরে শাজাহান খান, দীপু মনি, কামরুল হাসানসহ অনেকে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গোলাম মাওলা রনি প্রশ্ন তোলেন, রাশেদ খান মেননের নাম কেন ফাঁসির তালিকায় আসছে—তিনি ছিলেন ভিন্ন দলের নেতা এবং ব্যক্তিগত দুর্নীতির বিষয় থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে ফাঁসির নজির কেন ভাবা হচ্ছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি সতর্ক করেন যে, এমন গুজব যদি সত্যি হয়ে ওঠে তবে তা দেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে এবং তাড়াহুড়ো করে কোন সিদ্ধান্ত কার্যকর করা বা টার্গেট করে কাউকে শাস্তি দেওয়ার ফল ভালো হবে না।

অবশেষে তিনি বলেন, বর্তমানে জনগণের মধ্যে নির্বাচনী সম্ভাবনা নিয়েও বিভক্ত মত আছে—কেউ বলছেন ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে কোনো উৎসাহ নেই, কেউ বলছেন নির্বাচন হবে এবং বিএনপি ক্ষমতায় আসবে—তবে যেখানে বিতর্ক আছে সেখানে অস্তিত্ব থাকে; সেই ধারণাকে সামনে রেখে তিনি জনগণকে শান্তি ও আইনী প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *