নবীগঞ্জে শিক্ষক অপদস্তের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের উপর মব তৈরির চেষ্টা! ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধ

স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ থেকে

নবীগঞ্জ উপজেলার গোপলার বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই ছাত্রীকে বেদম বেত্রাঘাতের ঘটনায় সালিশ প্রক্রিয়ায় শিক্ষককে বিভিন্ন ভাষায় গালমন্দ করা হয় এবং জোর করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। সেই ভিডিও সংবাদকর্মী প্রকাশ করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ঝড় ওঠে। এর পর শিক্ষক অপদস্তকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকের উপর মব তৈরির চেষ্টা করে। বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে। এ ঘটনায় সুশীল সমাজে নিন্দার ঝড় উঠেছে। প্রকৃত সত্য আড়াল করতে কুচক্রী মহলের দ্বারা সৃষ্ট ওই বিক্ষোভ সমাবেশ প্রশাসন পণ্ড করে দেয়।

জানা গেছে, সালিশ সভায় ঐ শিক্ষককে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় সাংবাদিকদের দায়ী করে গতকাল বুধবার বিক্ষোভ মিছিল করে বিদ্যালয়ের ছাত্র–ছাত্রীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি সালিশ সভার সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংবাদিকরা কেন ভিডিও প্রকাশ করেছে, তার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে; অন্যথায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করতে হবে। উল্লেখ্য, দুই দিন আগে নবীগঞ্জ উপজেলার গোপলার বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক শেখ মারজান আহমদ স্কুলের দুই ছাত্রীকে শাসন করেন। এর জেরে গত মঙ্গলবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক সালিশ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আ. ক. ম. ফখরুল ইসলাম কালাম। বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির আহ্বায়ক ও পজীপ কর্মকর্তা শাকিল আহমদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আ. ক. ম. ফখরুল ইসলাম কালাম, সাবেক চেয়ারম্যান শেফুল মিয়া, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোফাজ্জল হক, গোপলার বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি আলী আকবর, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হায়দর আলী, লোকমান খান, আতাউর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি সদস্য বশির আহমদ, ইউনিয়ন অফিসের উদ্যোক্তা আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম রব্বানী, ইব্রাহিম খাঁ, আজিজ মেম্বারসহ আরও অনেকে। সভায় সিদ্ধান্ত হয় ইংরেজি শিক্ষক মারজান আহমদ প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে দিবেন যে, ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কাজ করবেন না। প্রধান শিক্ষক তোফাজ্জল হকের নির্দেশে শিক্ষক মারজান আহমদ প্রকাশ্যে ক্ষমা চান এবং অঙ্গীকার করেন, ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষার্থীকে শাসন করবেন না।

এসময় প্রধান শিক্ষক ঘোষণা দেন, উক্ত শিক্ষককে স্ট্যাম্পে মুচলেখা দিতে হবে। এ ঘটনাটি অনলাইন মাল্টিমিডিয়া চ্যানেলসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হলে একটি কুচক্রী মহল ছাত্র–ছাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। পরদিন সকাল বুধবার ছাত্র–ছাত্রীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে সাংবাদিকদের শাস্তির দাবি জানায়। পরে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাসান, নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ কারুজ্জামান ও বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি পজীপ কর্মকর্তা শাকিল আহমদ উপস্থিত হয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এসময় অনেকেই বলেন এখানে সাংবাদিকের দোষ কোথায়? তিনি তো কোনো রায় দেননি। রায় দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং তার নির্দেশেই রায় কার্যকর হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *