ইমরান আহমদ কাজল, হবিগঞ্জ থেকে
নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বাঁশডর গ্রামে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে। তিন সন্তানের জননী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। একইসঙ্গে নিখোঁজ হয়েছেন তার স্বামীর দোকানের কর্মচারীও। ঘরে পাওয়া যাচ্ছে না নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ দামী মালামাল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁশডর গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী মো. দুলাল মিয়ার স্ত্রী রোকসানা বেগম (২৫) প্রায় ১০ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন একই গ্রামের মো. ঠান্ডা মিয়ার মেয়ে রোকসানা বেগমকে। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। সংসার জীবন সুখেই কাটছিলো। ব্যবসার সুবিধার্থে দুলাল মিয়া নিজ গ্রামের আজিম উদ্দিন মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান অপু (২২) কে দোকানের কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেন। ধীরে ধীরে অপু দুলাল মিয়ার পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে এবং প্রায়ই তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতো।
দুলাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমার টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকারের লোভে অপু আমার স্ত্রী রোকসানাকে ভুল পথে চালিত করে। কয়েকবার স্ত্রী আমাকে জানায় অপু অশ্লীল ইঙ্গিত দেয় ও কু-প্রস্তাব দেয়। আমি বিষয়টি বুঝে কর্মচারী অপুকে সতর্ক করেছিলাম। কিন্তু সে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তিনি আরও জানান, গত ১২ অক্টোবর রাতে আমি ছোট ছেলেকে নিয়ে ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ ঘুম ভেঙে পাশের রুমে গেলে দেখি স্ত্রী ও বাকি দুই সন্তান নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাদের পাওয়া যায়নি। স্ত্রীর ফোন বন্ধ পাই। পরদিন সকালে অপু বাড়িতে নেই জানতে পারি। পরে দেখি ঘর থেকে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার, দামী মোবাইল ফোনসহ অনেক কাপড় চোপড় গায়েব।
তিনি আরও বলেন, আমার জীবনের সবকিছু নিঃশেষ হয়ে গেছে। সন্তানরা তাদের মাকে খুঁজছে। আমি নিজেও ভেঙে পড়েছি। প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই। পরবর্তীতে তিনি নবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মো. কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
