ইমরান আহমদ কাজল, হবিগঞ্জ থেকে
প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া বালু মাফিয়া, প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি এলাকাবাসীর। নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীতে প্রকাশ্যে দিবালোকে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। আইন-শৃঙ্খলা অমান্য করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে নদীকে ছিন্নভিন্ন করছে বালু চক্র।
স্থানীয় সূত্র জানায় কিছুদিন আগে উপজেলা প্রশাসন কুশিয়ারা নদীর তাজাবাদ মৌজায় অভিযান চালিয়ে বালু চক্রের একজন সদস্যকে আটক করে বালু জব্দসহ জরিমানা করেছিলেন। অথচ সে ঘটনার পর হঠাৎ করেই বালু মাফিয়া আবারও আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
যা আগে গোপনে করত, এখন তা করছে প্রকাশ্যে, দিবালোকে, প্রশাসনের চোখের সামনে।
এলাকার মানুষ বলছেন
প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া না থাকলে এভাবে নদী লুট করা সম্ভবই নয়। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পায় না!
কুশিয়ারা নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়-দিনের বেলায় একাধিক নৌকা দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে, নদীর চর ও স্রোতধারা নষ্ট হয়ে পড়ছে। এতে নদীভাঙন, ফসলি জমি ধ্বংসসহ পরিবেশের বিশাল ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নবীগঞ্জবাসীর দৃড় দাবি
জরিমানা নয়, বালু খেকোদের আইনের কাঠগড়ায় দাড় করান। বালু মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি ছাড়া এই অপকর্ম বন্ধ হবে না।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন
যে-ই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করুক না কেন, তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
এখন দেখার বিষয়
প্রশাসনের তৎপরতায় প্রভাবশালী বালু মাফিয়া কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে, নাকি কুশিয়ারা নদীকে বালুর চোরাবালিতে ডুবিয়ে দেবে এই দাপুটেরা!
প্রশ্ন রয়ে যায়…
কুশিয়ারা নদী কি বাঁচবে?
নাকি বালু মাফিয়াদের থাবায় ধীরে ধীরে বিলীন হবে নবীগঞ্জের পরিবেশ, কৃষি ও নদী-জীবন?
বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে কুশিয়ারা নদী শুধু নদী থাকবে না-একদিন লোককথা হয়ে যাবে।
