ধর্ম অবমাননা ও কটূক্তির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার

গণমঞ্চ নিউজ ডেস্ক –

ধর্ম অবমাননা ও কটূক্তির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও দুজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ম অবমাননাসংক্রান্ত কয়েকটি ঘটনা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সতর্ক করতে আনুষ্ঠানিক বার্তা দেবে।”

জানা যায়, ধর্ষণ ও সাইবার সুরক্ষা আইন সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় বর্তমানে কারাগারে থাকা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী শ্রীশান্ত রায়ের সঙ্গে ধর্ম অবমাননা ও হিজাব পরিহিত নারীদের প্রতি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে ঢাবির তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

অভিযুক্তরা হলেন- ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ)-এর বিবিএ ৩০ ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহতাজুর রহমান, একই ব্যাচের শিক্ষার্থী তাসনিয়া ইসলাম, এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২১- ২২ সেশনের শিক্ষার্থী আবরার ফাইয়াজ।

এর মধ্যে আবরার ফাইয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ৬ মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গতকাল প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “নিজ বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা আবরার ফাইয়াজের বিরুদ্ধে ইসলাম ও সনাতন ধর্ম-বিদ্বেষী মনোভাব পোষণ, আল্লাহ, নবী (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের নামে অশালীন ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ এনেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে এ ধরনের মন্তব্য ধর্ম অবমাননার শামিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা-বিরোধী অপরাধ।”

অভিযোগের পর ২৬ অক্টোবর প্রক্টর তিন সদস্যবিশিষ্ট তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেন। কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে উপাচার্যের অনুমোদনের পর তাকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

প্রক্টর বলেন, “বাকি দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এছাড়া সম্প্রতি সনাতন ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও নতুন অভিযোগ পেয়েছে প্রক্টর অফিস। প্রক্টর জানান, “আমরা অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু করি এবং যতো দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ধর্ম ও নৈতিকতার প্রতি অবমাননাকর কোনো আচরণ বরদাশত করবে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *