গণমঞ্চ নিউজ ডেস্ক –
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ঘিরে আবেগঘন একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এই লেখাটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
স্ট্যাটাসে জাইমা রহমান তার দাদুর সঙ্গে কাটানো শৈশবের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি লিখেছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত হলেও পরিবারের কাছে খালেদা জিয়া ছিলেন একজন মমতাময়ী অভিভাবক। শৈশবে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে মেডেল পাওয়ার পর দাদুর কাছে গিয়ে নিজের সাফল্যের গল্প শোনানোর মুহূর্তটি ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি।
তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ভার থাকা সত্ত্বেও দাদু সবসময় পরিবারের খোঁজ রাখতেন, সন্তান ও নাতি-নাতনিদের সময় দিতেন এবং তাদের সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যেতেন। এসব ছোট ছোট মুহূর্ত থেকেই তিনি নেতৃত্বের প্রথম পাঠ পেয়েছেন—নম্রতা, আন্তরিকতা এবং মন দিয়ে শোনার মানসিকতা।
স্ট্যাটাসে জাইমা রহমান তার দীর্ঘ প্রবাস জীবনের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের বাইরে সতেরো বছর কাটালেও নিজের শিকড়, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ কখনো ভুলে যাননি। লন্ডনের জীবন তাকে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি দিলেও তার হৃদয় সবসময় বাংলাদেশেই ছিল।
আইন পেশায় কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিতদের কণ্ঠ শোনা এবং তাদের সমস্যার সমাধানে কাজ করাই তাকে প্রকৃত শিক্ষা দিয়েছে। মানুষের জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থাকার অভিজ্ঞতা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিকল্প নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
স্ট্যাটাসে নিজের পারিবারিক উত্তরাধিকার এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথাও উল্লেখ করেন জাইমা রহমান। তিনি জানান, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান এবং এর আগের-পরে সময়গুলোতে নেপথ্যে থেকে যতটুকু পেরেছেন ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন।
দেশে ফেরার প্রসঙ্গে জাইমা রহমান লেখেন, অনেক বছর পর বাংলাদেশে ফিরে তিনি দাদুর পাশে থাকতে চান এবং বাবাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে চান। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য নিজের সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
সবশেষে তিনি লেখেন, তার পরিবারকে ঘিরে জনগণের প্রত্যাশা ও কৌতূহলের বিষয়টি তিনি বোঝেন এবং সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়ভার অনুভব করেন। নিজের গল্প শেয়ার করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার গল্প একসঙ্গে ধারণ করেই সামনে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
