ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে নবীগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা নিহত ১, দুই শিশুর জীবনে নেমে এলো অন্ধকার

ইমরান আহমদ কাজল, হবিগঞ্জ থেকে

ইমরান আহমদ কাজল: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর টোল প্লাজার পাশে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন নসিমনচালক নজরুল ইসলাম (৪২)। তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার সদরঘাট হাজীপুর গ্রামের হাজী হারুন মিয়ার পুত্র। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শনিবার) দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে ঢাকা অভিমুখী আল মোবারাকা পরিবহনের একটি বাস পিছন দিক থেকে নসিমনটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে নসিমনটি উল্টে যায় এবং চালক নজরুলের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তিনি ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যান নবীগঞ্জ থানার গোপলারবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাজল চন্দ্র দাশ। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ বিষয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর সাহিদ জানান, আল মোবারাকা পরিবহনের একটি বাস এই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি, গাড়ির নাম্বার ৪০৭১। তদন্ত চলছে। এদিকে নিহত নজরুল ইসলামের ঘরে দুই শিশু সন্তান—একজনের বয়স মাত্র ৮ বছর, অন্যজনের ৩ বছর। মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো গ্রাম। স্বজনরা বলেন, “বাবাহারা এই বাচ্চাগুলোর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। প্রতিদিনই এই রাস্তায় মানুষ মরছে, কেউ যেনো কিছুই করে না!
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চালকদের বেপরোয়া গতি আর অবহেলাই এসব মৃত্যুর মূল কারণ। আল মোবারাকার ও হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস বাসগুলো দিনে দিনে মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত এসব বেপরোয়া ড্রাইভারদের কঠোরভাবে শাস্তি দেয়া।
একজন প্রবীণ পথচারী বলেন, আজ যে মারা গেল, সে ছিল গরীব নসিমন চালক। কাল কে জানে কার পালা! এই মহাসড়কে এখন মানুষ নয়, যেন মৃত্যুই দৌড়ায়।
দুর্ঘটনার পর থেকে সদরঘাট এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দুই ফুটফুটে বাচ্চার কান্নায় ভিজে গেছে নজরুলের ছোট্ট ঘর পরিবারটির এখন একটাই দাবি, “বাচ্চাদের বাবার হত্যার বিচার চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *