টি–টোয়েন্টির বাজারে নতুন ফিনিশার ডনোভান ফেরেইরার

গণমঞ্চ নিউজ ডেস্ক –

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট কি তাহলে নতুন এক ফিনিশার পাচ্ছে? প্রশ্নটি উঠতেই পারে। কারণ, যাঁর কথা বলা হচ্ছে সেই দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার ডনোভান ফেরেইরার পারফরম্যান্সই যে এমন!

২৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বর্তমানে খেলছেন ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট দ্য হানড্রেডে। তাঁর দল ওভাল ইনভিন্সিবল এখন ফাইনালে। দলকে ফাইনালে তুলতে ফিনিশার হিসেবে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছেন ফেরেইরা।

টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৬৯টি বল খেলেছেন ফেরেইরা। রান করেছেন ১৬৯। স্ট্রাইক রেট ২৪৪.৯২। ১০০ বলের এ টুর্নামেন্টে ওভাল কোচ টম মুডি তাঁকে ব্যবহার করছেন ‘বাউন্ডারি মেশিন’ হিসেবে। তিনি যে ১৬৯ রান করেছেন এর মধ্যে মাত্র ১৭ রান নিয়েছেন দৌড়ে। ছক্কা মেরেছেন ১৭টি, চার ১০টি। মানে ১৫২ রানই করেছেন বাউন্ডারি থেকে!

ডনোভানের কাজটাই শেষ কয়েক বলে নেমে ঝড় তোলা। এই যেমন ওভালের সর্বশেষ দুই ম্যাচে ছয়ে নেমেছেন। এক ম্যাচে করেন ৯ বলে ২৪, আরেকটিতে ১৫ বলে ৪১। গড়ে ফেরেইরা প্রতি ৪ বল পর একটি করে ছক্কা মারছেন।

তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ ইনিংসের শুরু থেকেই হাত খুলে মারতে পারেন। এবারের হানড্রেডে নিজের ৬ ইনিংসের মধ্যে ৫টিতেই ইনিংসের প্রথম ৩ বলের মধ্যে বাউন্ডারি মেরেছেন।

মজার বিষয়, এই ৬৯ বল খেলে তাঁর পকেটও কিন্তু ভারী হয়েছে। হানড্রেডে তিনি বিক্রি হয়েছিলেন ৭৮ লাখ টাকায়। এখন পর্যন্ত তিনি যে কয়টি ডেলিভারি (বল) খেলেছেন, তাতে প্রতিটি ডেলিভারি খেলে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা করে ঢুকেছে তাঁর পকেটে।

২০২৫ সালে চারটি বড় লিগ—এসএ২০, আইপিএল, এমএলসি আর হানড্রেড মিলিয়ে অন্তত ১৫টি ছক্কা মেরেছেন ৬৬ জন ব্যাটসম্যান। এর মধ্যে ছক্কা মারার গড়ে ফেরেইরা আছেন চতুর্থ স্থানে। গড়ে প্রতি ৬.২৩ বলে একবার করে ছক্কা হাঁকাচ্ছেন।

সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ৯৮ ইনিংস ব্যাট করেছেন ডনোভান। ছক্কাসংখ্যা সেখানে চারের চেয়েও বেশি। ১৪৪টি চারের বিপরীতে ১৪৫টি ছক্কা! বলে রাখা ভালো, ছোট ছক্কা মারেন না ফেরেইরা। গত এসএ টি-টোয়েন্টিতে নাভিন উল হকের এক ওভারে ১০৯ ও ১০৫ মিটারের ছক্কা মেরেছিলেন। চলতি বছরে সব মিলিয়ে ২৩ ইনিংসে ১৯৮ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন ৫৮১। ছক্কা মেরেছেন ৪৭টি, চার ৩৩টি।

তবে জাতীয় দলে ডনোভানের জায়গা এখনো নিশ্চিত নয়। ছয়টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে। রান করেছেন মাত্র ৭৯। ডেভিড মিলার, ত্রিস্টান স্টাবস, ডেভাল্ড ব্রেভিসদের ভিড়ে দলে নিয়মিত হওয়ার কাজটাও কিন্তু সহজ না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *