জর্জিনার আগে বিপাশা বসুসহ যাদের সঙ্গে প্রেম ছিল রোনালদোর

গণমঞ্চ ডেস্ক নিউজ

বয়সটা ৪০ পেরোলেও এখনও ফুটবল মাঠে ২৫ বছরের তরুণদের মতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এক হাজার গোলের মাইলফলকের দিকে ছুটতে থাকা রোনালদো পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই আলোচনায় ছিলেন। ক্যারিয়ারের বেশ কয়েকজন তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি।

তবে বর্তমানে রোনালদোর জীবনসঙ্গী আর্জেন্টাইন মডেল জর্জিনা রদ্রিগেজ। তাদের দীর্ঘ নয় বছরের প্রেম ও সংসার জীবনকে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছেন সিআরসেভেন। আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পরই বিয়ে পিঁড়িতে বসবেন তিনি। এর আগে গত ১১ আগস্ট বাগদান সেরেছেন এই ফুটবল কিংবদন্তি।

এরপর ৪০ বছর বয়সী রোনালদো জর্জিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর আগে কারা এসেছিলেন তার জীবনে, তারই একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেইল অনলাইন। সেটি নিচে দেখানো হলো:

জর্দানা জার্দেল

পেশাদার ফুটবলার হিসেবে রোনালদোর জীবনে প্রথম প্রেমিকা ব্রাজিলিয়ান মডেল জর্দানা জার্দেল। স্পোর্তিং লিসবন সতীর্থ মারিও জার্দেলের মাধ্যমে জর্দানার সঙ্গে পরিচিত হন রোনালদো। মারিও ও জর্দানা সম্পর্কে ভাই-বোন। ১৮ বছর বয়সী রোনালদোকে সে সময় জর্দানার সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। 

২০০৩ সালে ফুটবল খেলার সরঞ্জাম পরে গ্যালারিতে বসে রোনালদোকে সমর্থন দিতেও দেখা গেছে বর্তমানে ৪০ বছর বয়সী জর্দানাকে। তবে দুজনের সম্পর্কটা বেশি দিন টেকেনি। অল্প সময়ের জন্য প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন দুই ভুবনের দুই তারকা। জর্দানা এখন বিবাহিত এবং তাঁর আট বছরের একটি মেয়ে আছে।

মেরশে রোমেরো

পর্তুগিজ মডেল মেরশে রোমেরোর সঙ্গে ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন রোনালদো। পর্তুগিজ এই টিভি সঞ্চালক বয়সে তাঁর ৯ বছরের বড়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে প্রথম মেয়াদে রোনালদোর প্রেমিকাদের মধ্যে মেরশে বেশ আলোচিত। কিন্তু রোনালদো ইংল্যান্ড আর মেরশে পর্তুগালে থাকায় দুজনের সম্পর্ক বেশি দিন টেকেনি। তবে প্রেমের সম্পর্কটা যতটা সম্ভব গোপন রাখার চেষ্টা করেছেন দুজনই। 

ইমোগেন টমাস

মেরশের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর রিয়েলিটি তারকা ইমোগেন টমাসের সঙ্গে অল্প সময়ের জন্য প্রেমের সম্পর্কে জড়ান রোনালদো। ‘বিগ ব্রাদার’ দিয়ে খ্যাতি পাওয়া এবং ২০০৩ সালে ‘মিস ওয়েলশ’ হওয়া এই টিভি ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ২০০৬ সালে রোনালদোর প্রেমের গুঞ্জন চাউর হয়। এরপর ২০১১ সালেও দ্বিতীয় দফায় দুজনের প্রেমে জড়ানোর গুঞ্জন শোনা গেছে।

সোরাইয়া চাভেস

পর্তুগিজ অভিনেত্রী ও মডেল। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া পর্তুগালের ওই বছরের সবচেয়ে ব্যবসাসফল সিনেমা ‘কল গার্ল’–এ অভিনয় করে খ্যাতি পান। তার আগের বছর রোনালদোর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন। রোনালদোর এ সম্পর্কও বেশি দিন টেকেনি।

জেমা অ্যাটকিনসন

রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকতে ২০০৭ সালে তার সঙ্গে অভিনেত্রী ও গ্ল্যামার মডেলকন্যা জেমা অ্যাটকিনসনকে মাঝেমধ্যেই দেখা গেছে। এ নিয়ে তখন ইংল্যান্ডের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার শেষ ছিল না। ব্রিটিশ টিভি সিরিজ ‘হলিওকস’-এর অভিনেত্রী জেমা অ্যাটকিনসনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল সরল কিন্তু মনোমুগ্ধকর। জেমা একবার প্রকাশ করেন, রোনালদো তাকে চা আর ক্লাসিক ব্রিটিশ সিটকমের আমন্ত্রণ জানিয়ে মন জয় করেছিলেন।

বিপাশা বসু

জেমার সঙ্গে প্রেমের বছরই বলিউড তারকা বিপাশা বসুকে চুমু খেতে দেখা গিয়েছিল রোনালদোকে। লিসবনে একটি অনুষ্ঠানের সঞ্চালক হয়েছিলন দুজন, সেখান থেকে তাঁদের পরিচয়। সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়ায়, সেখান থেকে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান দুই ভুবনের দুই তারকা। সাক্ষাতের সেই সন্ধ্যা নিয়ে বিপাশা পরে বলেছিলেন, ‘স্বপ্ন সত্যি হলো।’ 

বিপাশার ভাষায়, ‘সাক্ষাতের পর আমরা ক্লাবে যাই। সময়টা দারুণ কেটেছে।’ তবে ‘চুমু’র ব্যাপারটি অস্বীকার করে বিপাশা  বলেছিলেন, ওটা ছিল ‘মধুরতম পুরুষ’ রোনালদোর সঙ্গে একটি দুষ্টুমির মুহূর্ত। বলিউডের সিনেমা দুজনেরই পছন্দের হওয়ায় তাদের বন্ধুত্ব হয়েছিল বলে জানিয়েছিল সংবাদমাধ্যম।

প্যারিস হিলটন

রোনালদো তখন কিছুদিন হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়েছেন। আর হলিউড অভিনেত্রী ও মডেল প্যারিস হিলটনেরও বেসবল খেলোয়াড় ডগ রেইনহার্টের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটেছে। ২০০৯ সালে জানা যায়, রিয়াল মাদ্রিদে ৮ কোটি পাউন্ড ট্রান্সফার ফিতে যোগদানের ব্যাপারটি উদ্‌যাপন করতে লস অ্যাঞ্জেলেসে হিলটনকে নিয়ে পার্টিতে মজেছেন রোনালদো।

 যুক্তরাষ্ট্রের শহরটির মাইহাউস নৈশ ক্লাবে সময় কাটিয়েছিলেন দুজন। সে সময় প্যারিস হিলটনের বোন নিকিও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। এরপর ওয়েস্ট হলিউডে নিকির বাসায় যান দুজন। তবে কয়েকটি রাত ও কিছু চুমুর বাইরে দুজনের সম্পর্কটা বেশি দিন এগোয়নি বলে জানায় সংবাদমাধ্যম।

লুয়ানা বেলেত্তি

২০০৯ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসির খেলোয়াড় জুলিয়ান বেলেত্তির বোন লুয়ানা বেলেত্তির সঙ্গেও রোনালদোর প্রেমের গুঞ্জন শোনা গেছে। এই ফ্যাশন ডিজাইনারকে রেস্টুরেন্টে রোনালদোর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা গেছে। তবে সেই সম্পর্কও বেশিদিন এগোয়নি। 

নেরেইদা গ্যালার্দো

স্প্যানিশ মডেল। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর নামটি আলোচনায় এসেছে। কারণ, রোনালদোর বর্তমান প্রেমিকা জর্জিনাকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। ২০০৮ সালে ৮ মাসের জন্য রোনালদোর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান বিউটি সেলুনের এই মালিক। 

এর আগে রোনালদোর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর পর্তুগিজ কিংবদন্তির পক্ষ নিয়ে ‘মিরর’কে গ্যালার্দো বলেছিলেন, ‘খবরটি শুনে বিস্মিত হয়েছি। কারণ, ক্রিস্টিয়ানোর সঙ্গে থাকতে সে আমার সঙ্গে ভালো আচরণ করেছে। আমার প্রতি সে কখনোই আক্রমণাত্মক হয়নি। বিছানায় সে মোটেও আক্রমণাত্মক নয়।’

কিম কার্ডাশিয়ান

২০১০ সালে রোনালদোর প্রেমের রাডারে ধরা পড়েছিলেন কিম কার্ডাশিয়ান। মেইল অনলাইন সূত্র মারফত জানিয়েছে, তখন ২৯ বছর বয়সী কিম স্পেনে বেড়াতে গিয়েছিলেন এবং রোনালদোর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। তাঁকে চুমুও দিতে দেখা গেছে রোনালদোকে। মাদ্রিদে তিন দিনের সেই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের এই মিডিয়া ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ডিনারেও দেখা গিয়েছিল রোনালদোকে। 

তখন একটি সূত্র বলেছিলেন, ‘সে ও রোনালদো একে অপরকে চুমু খাচ্ছিল। হাসাহাসিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সময় কাটাচ্ছিল দুজন।’ স্পেনে রোনালদোর বাসায়ও কার্ডাশিয়ান গেছেন বলে তখন গুঞ্জন শোনা গেছে সংবাদমাধ্যমে। ফুটবলপ্রিয় কার্ডাশিয়ানকে কয়েক বছর ধরে তাঁর সন্তানকে ফুটবল ম্যাচে নিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। রোনালদোর দলের ম্যাচেও তাঁকে দেখা গেছে গ্যালারিতে।

ইরিনা শায়েক

জর্জিনা আসার আগে রুশ এই সুপারমডেলের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি দিন সম্পর্ক ছিল রোনালদোর। ২০১০ সালে আরমানির এক অনুষ্ঠানে ইরিনা শায়েক ও রোনালদো একসঙ্গে মডেলিং করেন। সেখান থেকে দুজনের পরিচয় এবং তারপর সম্পর্কটা প্রণয়ে গড়ায়। সে সময় বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত জুটিদের মধ্যে ছিলেন তারা। ২০১৪ সালে ‘ভোগ’ সাময়িকীর প্রচ্ছদেও আসেন এই জুটি। 

প্রায় পাঁচ বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর দুজনের সম্পর্ক ভেঙে যায়। সংবাদমাধ্যম তখন জানিয়েছিল, ‘বিশ্বাসঘাকতা’র শিকার হওয়ায় এ সম্পর্কে আর থাকেননি ইরিনা। রোনালদো গোপনে বিশ্বের নানা প্রান্তে বিভিন্ন মেয়েকে বার্তা পাঠান, এটা জানার পর ইরিনা এ সম্পর্ক থেকে সরে আসেন। ইরিনা সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে ১ কোটি ১০ লাখ অনুসারী হারান।

লুসিয়া ভিল্লালোন

ইরিনার সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর স্পেনের টিভি সঞ্চালক লুসিয়া ভিল্লালোনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান রোনালদো। নিজের তৃতীয় ব্যালন ডি’অর জয়ের পর তাঁকে ভিল্লালোনের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে দেখা গেছে। তবে একটি ব্লগে রোনালদোর সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারটি অস্বীকার করেন ভিল্লালোন, ‘তার সঙ্গে আমার পরিচয়টা পেশাদার। কারণ, আমি রিয়াল মাদ্রিদ টিভিতে কাজ করেছি।’

দেজিরে কোরদেরো

জর্জিনা আসার আগে রোনালদোর সর্বশেষ প্রেমিকা। ২০১৪ সালে ‘মিস স্পেন’ মুকুটজয়ী দেজিরের সঙ্গে রোনালদো খুদে বার্তা আদান–প্রদান করেন—এমন গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল শুরুতে। এরপর জানা গেল, মাদ্রিদের বাইরে লা ফিঞ্চায় রোনালদোর বিলাসবহুল প্যাডে যাতায়াত আছে দেজিরের। 

কয়েক মাস পর স্পেনের সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, দেজিরের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে গেছে রোনালদোর। কারণ, পর্তুগিজ তারকা মনে করেন, দেজিরে ‘খ্যাতির মোহে’ তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছিলেন। বর্তমানে আর্জেন্টিনার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হোয়াকুইন কোরেয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে আছেন দেজিরে।

জর্জিনা রদ্রিগেজ

২০১৬ সালে মাদ্রিদের একটি বুটিক স্টোরে সেলস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন জর্জিনা রদ্রিগেজ। সেখানেই প্রথমবার রোনালদোর সঙ্গে তার দেখা হয় এবং সম্পর্ক শুরু হয়। এরপর প্রায় ১০ বছর ধরে একসঙ্গে থাকছেন রোনালদো ও জর্জিনা। বর্তমানে তারা পাঁচ সন্তানের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

তাদের পাঁচ সন্তান আলানা, বেলা, ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র এবং যমজ মাতেও ও এভা মারিয়া। দুঃখজনকভাবে, বেলার যমজ ভাই অ্যাঞ্জেল জন্মের কিছুক্ষণ পরই মারা যান। ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়রের মায়ের পরিচয় কখন প্রকাশ করা হয়নি এবং মাতেও ও এভা মারিয়া সারোগেসির মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *