গুণগত মানোন্নয়নে নতুন দিগন্ত- প্রান্তিক মূল্যায়ন

ছবি- রায়বাজর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অনুষ্টিত মূল্যায়ন টেস্ট।
মিয়া সুলেমান, ময়মনসিংহ থেকে

প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রযাত্রায় দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠেছে। শুধু শিক্ষার্থীদের জ্ঞান যাচাই নয়, বরং তাদের শেখার প্রক্রিয়াকে সুদৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলার এক শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবেই এটি বিবেচিত হচ্ছে।

এই সময়ে শিক্ষার্থীরা তাদের পূর্বের পড়াশোনা ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়। বারবার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে তাদের পাঠ্যবস্তুর ধারণা আরও দৃঢ় হয়। ফলে পরীক্ষার সময় তারা সহজেই প্রস্তুতি নিতে পারে এবং ভালো ফলাফলের মাধ্যমে নিজের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়াতে সক্ষম হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিক্ষার্থী নিয়মিত প্রান্তিক মূল্যায়নে ভালো করে, তারা পরবর্তী ধাপগুলোতেও সফল হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখায়।

দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন শিক্ষকদের কাছে একটি মূল্যবান প্রতিফলন। পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে তারা বুঝতে পারেন কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা রয়ে গেছে এবং কোন বিষয়ে তারা দক্ষ হয়ে উঠছে। এভাবে শিক্ষকরা তাদের শিক্ষাদান পদ্ধতিকে নতুনভাবে সাজাতে পারেন এবং কার্যকর শিক্ষণ কৌশল গ্রহণ করতে পারেন। ফলে শ্রেণিকক্ষ হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ।

এই মূল্যায়নের মাধ্যমে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানের প্রকৃত শিক্ষা অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান। সন্তানের ভালো ফলাফলে তারা যেমন গর্ববোধ করেন, তেমনি দুর্বলতার জায়গায় আরও মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পান। এতে পরিবার থেকে শিক্ষার্থীর প্রতি বাড়তি যত্ন ও উৎসাহ যোগ হয়, যা তাদের পড়াশোনায় অনুপ্রেরণা যোগায়।
কিছু স্কুলের অভিজ্ঞতা বলছে, দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়নে ভালো ফলাফল করার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়। তারা কেবল বইয়ের পড়াতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং সৃজনশীল কাজ, কুইজ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এভাবেই শিক্ষা হয়ে ওঠে আনন্দময় ও বহুমাত্রিক।

এ ধরনের মূল্যায়ন শুধুমাত্র একটি পরীক্ষা নয়, বরং এটি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে গতিশীল করার একটি কার্যকর মাধ্যম। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে একটি সমন্বিত সম্পর্ক তৈরি হয়, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানে সহায়তা করে।সর্বোপরি বলা যায়, দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন প্রাথমিক শিক্ষার জন্য নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এটি শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নত করে এবং অভিভাবকদের আরও সম্পৃক্ত করে তোলে—যা সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *