খাদ্যদূষণ উদ্বেগে প্রধান উপদেষ্টার জরুরি বৈঠক, সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ

ছবিঃ প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ

গণমঞ্চ নিউজ ডেস্ক –

খাদ্যে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ও ভেজালের কারণে জনস্বাস্থ্যে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় জরুরি উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার দুপুরের এই বৈঠকে কৃষি, স্বরাষ্ট্র, খাদ্য, স্বাস্থ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ—সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাসহ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, মুখ্য সচিব, মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ এবং বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ও পরমাণু শক্তি কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

খাদ্যদূষণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস বলেন—

“খাদ্যে দূষণের অস্তিত্ব আমরা জানি; এখন জরুরি হলো এটিকে কীভাবে মোকাবিলা করা যায় তা নির্ধারণ করা। আমাদের সন্তান থেকে বাবা-মা—সকলেই এর ভুক্তভোগী। নিজেদের স্বার্থেই সবাইকে একসঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে।”

তিনি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে খাদ্যদূষণ মোকাবিলায় কার্যকর কর্মপরিকল্পনা লিখিত আকারে জমা দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বিএফএসএর উদ্বেগজনক তথ্য উপস্থাপন

বৈঠকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানায়—

  • বিশ্বে বছরে ৬০ কোটি এবং বাংলাদেশে ৩ কোটি শিশু খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়।
  • চার ধরনের দূষক বেশি পাওয়া যায়: ভারী ধাতু, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ, তেজস্ক্রিয়তাজৈবদূষক
  • গত অর্থবছরে পরীক্ষিত ১৮০ নমুনার মধ্যে ২২টিতে অতিরিক্ত সীসা পাওয়া গেছে।
  • একটি যৌথ গবেষণায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় ৩০০ ধরনের ওষুধ, ২০০ ধরনের কীটনাশক এবং ১৬ ধরনের পিএফএএস শনাক্ত হয়।
  • ইউনিসেফের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশে ৩.৫ কোটি শিশু সীসা সংক্রমণে আক্রান্ত

বিএফএসএর চেয়ারম্যান জাকারিয়া জানান, সীসা শরীরে ঢুকে মস্তিষ্ক, যকৃত, কিডনি ও হাড়ে জমা হয়; শিশুদের ক্ষেত্রে মানসিক বিকাশে গুরুতর প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক গবেষণায় ৫% গর্ভবতী নারীর শরীরেও সীসা পাওয়া গেছে।

পোল্ট্রি ও কৃষিতে অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ ব্যবহারে উদ্বেগ

খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, হাঁস-মুরগির খামারগুলোতে অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক দিলে তা ৭ থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত শরীরে থাকে। এ সময় শেষ হওয়ার আগেই মুরগি বাজারজাত হলে মানুষের শরীরে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক প্রবেশ করছে।

বড় খামারগুলো তুলনামূলক সচেতন হলেও কিছু প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের নজরদারি এড়িয়ে অবৈধভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

জনসচেতনতা ও পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির পরামর্শ

খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, নিরাপদ খাদ্যের প্রতি মনোযোগ কমলে জনস্বাস্থ্যই ঝুঁকিতে পড়ে।
তিনি বলেন—
“গণমাধ্যমকে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা নিতে হবে। নিরাপদ খাদ্য একটি জরুরি বিষয়, এবং এটি পাঠ্যপুস্তকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।”

ল্যাবসমূহকে কাজে লাগানোর নির্দেশনা

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান জানান, দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব ব্যবহার করে খাদ্যে সীসার মাত্রা নিয়ে একটি সমন্বিত গবেষণা দ্রুত শুরু করা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *