কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে শুভাঢ্যা এলাকার ডোবা থেকে অটোরিকশাচালক জালাল শিকদারের (৪৮) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। তাঁদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি ও হত্যাকারী দুজনই অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের সদস্য ছিলেন। ঘটনার দিন দুজন অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য বেরিয়েছেলেন। তবে কোন অটোরিকশাচালককে না পেয়ে হত্যাকারী জালালকে জুস খাইয়ে অচেতন করে হত্যার পর তার অটোরিকশা নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শেখ নুরু (৪৬) ও মোজাম্মেল মোল্লা (৪৪)।
আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা পিবিআই পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পূর্বপাড়া কামারপাড়া এলাকার খোকন মিয়ার চারতলা ভবনের পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পিবিআইয়ের অপরাধ তদন্ত দল নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। পরে জানা যায়, নিহতের নাম জালাল শিকদার। পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানার রাঙ্গাবালীর পশ্চিমনেতা গ্রামে। তিনি কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের চড়াইল মসজিদ গলির রমজানের ভাড়াটিয়া বাড়িতে বসবাস করতেন। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের স্ত্রী হনুফা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পিবিআই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে গত ১১ অক্টোবর রাজধানীর শাহ আলী থানার গুদারাঘাট এলাকা থেকে জালাল হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা শেখ নুরুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত চুরি ও ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা ক্রয়-বিক্রয়কারী মোজাম্মেলক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোজাম্মেলের দেওয়া তথ্যমতে রাজধানীর কদমতলী থানার হাবিবনগর খানকা শরীফ এলাকায় সোহেল মিয়ার গ্যারেজ থেকে নিহত জালালের ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার শেখ নুরুকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, শেখ নুরু হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে সে জালালকে ফোন করে কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকায় দেখা করতে বলে। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য একসঙ্গে বের হওয়া। তবে সেদিন তারা কোনো যানবাহন ছিনতাই করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নুরু তার বন্ধু জালালের নিজের অটোরিকশাকেই টার্গেট করে। একপর্যায়ে চুনকুটিয়া এলাকায় একটি দোকানে কৌশলে জালালকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় নুরু। জালাল অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা কামারপাড়া এলাকার ডোবার পাশে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নুরু। এরপর মরদেহ ডোবার পানিতে ফেলে দেন তিনি। পরদিন ভোরে নুরু জালালের অটোরিকশাটি চালিয়ে রায়েরবাগ এলাকার মোজাম্মেল মোল্লার কাছে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেঅ
তিনি আরও বলেন, জালাল ও নুরু দুজনই একটি সংঘবদ্ধ অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের সদস্য ছিল। তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রিকশা, ভ্যান, অটোভ্যান ও অটোরিকশা চুরি ও ছিনতাই করত। তাদের কৌশল ছিল রিকশার প্রকৃত চালক কোথাও গেলে তালা ভেঙে দ্রুত যানটি সরিয়ে নেওয়া অথবা যাত্রী সেজে চালকের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে দোকানে নিয়ে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো। অনেক সময় চালককে হত্যা করে রিকশা ছিনতাই করত তারা। প্রাথমিক তদন্তে জানাগেছে, রাজধানীতে এমন আরও একাধিক সংঘবদ্ধ অটোরিকশা ছিনতাই চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
