মিয়া সুলেমান, ময়মনসিংহ থেকে
ঈশ্বরগঞ্জে আছে, হাসপাতালে আছে, রোগী আছে কিন্তু চিকিৎসক নেই; তাই চিকিৎসা নিচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন প্রাইভেট ক্লিনিক (ডায়াগনস্টিক সেন্টার) থেকে। আর এ সুযোগে বেপরোয়া দালালচক্রের দৌরাত্ম্য। হাসপাতাল থেকে রোগী ক্লিনিকে নেওয়ার দালালি করছে হাসপাতালেরই দালালচক্র।
জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের সংকট চরমে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি, শিশু, অ্যানেসথেসিয়া, চর্ম ও চোখের চিকিৎসক নেই।
চিকিৎসক সংকটের সুযোগে রোগী ধরার প্রতিযোগিতা চলছে দালালদের মধ্যে। রোগী ভর্তি হওয়ার পর দালালদের মাধ্যমে প্রাইভেট ক্লিনিকের বিভিন্ন সিন্ডিকেট সদস্যরা রোগীকে প্রলোভন দেখিয়ে ক্লিনিকে নিয়ে যায়।
বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, স্থানীয়দের অভিযোগ, সেন্টারে ৬ দালাল মিলে চক্র গঠন করেছে। এরা হাসপাতালের চিকিৎসক ও অফিসের ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে রোগীর চিকিৎসার খোঁজখবর রাখছে। চিকিৎসক রোগী দেখার পর প্রেসক্রিপশন নিয়ে দালালরা হাজির হয় ওষুধের দোকান, সেন্টার, ল্যাব, ফিজিওথেরাপি সেন্টার, শিশু হাসপাতাল, প্যাথলজি ল্যাব ও অন্যান্য প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে। রোগীকে ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কমিশন বাবদ টাকা পায়।
উপজেলার রাজিবপুর, কৈচাপুর, আঠারবাড়ি, মাইজবাগ, উচাখিলা, সোহাগী, জাটিয়া, ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকার রোগীকে টার্গেট করছে দালালচক্র।
স্থানীয় সচেতন মহল জানায়, হাসপাতালের দালালচক্রের কারণে চিকিৎসা সেবার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গরিব শ্রেণির রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দ্রুত হাসপাতাল থেকে দালালচক্র উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতালে দালালমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। দালালদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
