আর্থিক দৈন্যদশায় জর্জরিত — শ্রেণিকক্ষে নয়, সমাধানে রাজপথে শিক্ষকবৃন্দ

মিয়া সুলেমান, ময়মনসিংহ থেকে

শিক্ষকতা নিঃসন্দেহে একটি মহান পেশা— জাতি গঠনের কারিগর হিসেবে শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সমাজে এই পেশার মর্যাদা ও আর্থিক অবস্থার চিত্র আজ উদ্বেগজনক। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির এই সময়ে দেশের অসংখ্য শিক্ষক পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এ অবস্থায় প্রায়ই দেখা যায়, ন্যায্য অধিকার ও দাবি আদায়ে শিক্ষকেরা রাজপথে নেমে আসছেন। বেতন বৈষম্য নিরসন, পদোন্নতি, টাইম-স্কেলসহ নানা দাবি নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তারা আন্দোলনে বাধ্য হচ্ছেন।

তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন— “শিক্ষকের স্থান কি রাজপথে, না শ্রেণিকক্ষে?”
জাতি গঠনের এই মহান পেশাজীবীদের মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি অনুরোধ— শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা ও প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দিয়ে তাদের শ্রেণিকক্ষে ফেরানো হোক। শিক্ষকের মুখে হাসি ফিরলে তবেই জাতি আলোর পথে অগ্রসর হতে পারবে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক ইস্যুতে সরকারের গা–ছাড়া ভাবও এখন প্রশ্নের মুখে। দীর্ঘদিন ধরে এই শিক্ষকেরা বেতন–ভাতাসহ নানা আর্থিক সুবিধার জন্য অপেক্ষা করছেন, কিন্তু কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি।

অন্যদিকে তৈরি পোশাক খাতে কর্মরত শ্রমিকদের তুলনায় শিক্ষকদের আর্থিক অবস্থার বৈষম্যও চোখে পড়ার মতো। ২০২৩ সালের শেষের দিকে সরকার পোশাকশ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করেছে ১২ হাজার ৫০০ টাকা, যা ২০২৪ সাল থেকে কার্যকর হয়েছে। মাস শেষে অতিরিক্ত ডিউটি ও ভাতা মিলিয়ে একজন পোশাককর্মীর আয় দাঁড়ায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায়।

কিন্তু দেশের বহু সহকারী শিক্ষক মাস শেষে পান ১৫ হাজার টাকারও কম বেতন। অথচ পোশাককর্মীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি বা এসএসসি পাস, আর শিক্ষকরা অনার্স, মাস্টার্স, এমনকি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেও শ্রেণিকক্ষে দাঁড়ান অল্প বেতনে।

তাহলে প্রশ্ন জাগে— শিক্ষকদের এমন বেতনকাঠামো ও মূল্যায়নকে কী বলা যায়? বৈষম্য, প্রহসন, না তামাশা?
সবক্ষেত্রেই কাটছাঁট ও সীমাবদ্ধতার বেড়াজালে শিক্ষকতার চাকরি আজ কার্যত একটি প্রতিবন্ধী পেশায় রূপ নিয়েছে।

শিক্ষকমহলের প্রশ্ন তাই একটাই— “শিক্ষকদের সঙ্গে এই তামাশা আর কত?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *