মিয়া সুলেমান, ময়মনসিংহ থেকে
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সদ্য বহিষ্কৃত ছাত্রদলের ১৯ নেতা–কর্মী বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ‘রিভিউ আবেদন’ করেছেন। শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে গৌরীপুর পৌর শহরের পাটবাজার এলাকায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা। সম্মেলনে বহিষ্কৃত ১৯ জনের মধ্যে ১৬ জন উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গৌরীপুর পৌর ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম পিয়াস। তিনি অভিযোগ করেন, গত ৯ নভেম্বর নারী সমাবেশে হামলার ঘটনায় ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেলের নেতৃত্বে স্থানীয় ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা হামলা চালালেও উল্টো তাদেরই কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বহিষ্কার করা হয়েছে।
পিয়াস বলেন, নারী সমাবেশ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইনের সমর্থনে আয়োজিত সভায় যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে মঞ্চ, চেয়ার, মোটরসাইকেল ভাঙচুরসহ মা–শিশুসহ ৫০ জনের বেশি আহত হন। পরে ছাত্রদল কর্মী তানজিন আহমেদ আবিদের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রকৃত হামলাকারীদের আড়াল করতে জেলা ছাত্রদল সভাপতি সোহেল তাদের বহিষ্কার করে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন। তারা কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতাদের কাছে ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল বলেন, দলীয় প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেইনের পক্ষে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হলেও কিছু নেতাকর্মী তা অমান্য করে সংঘাত, অবরোধ, জ্বালাও–পোড়াওসহ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। তাই সংগঠনের বিধি অনুযায়ী তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বহিষ্কৃত নেতা–কর্মীরা যদি লিখিতভাবে আবেদন করেন এবং দলের সিদ্ধান্ত মেনে কাজ করেন, তবে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানানো হবে।
