অসলো চুক্তির পর স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সেরা সুযোগ

গণমঞ্চ ডেস্ক নিউজ

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর গাজার কিছু এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে বাস্তচ্যুত হাজারো গাজাবাসী ফিরে যাচ্ছেন তাদের এলাকায়। শুক্রবার গাজার নুসেইরাত থেকে আল-রাশিদ সড়ক ধরে গাজা সিটির দিকে ফিরতে দেখা যায় ফিলিস্তিনিদের।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তীব্র সংঘাতের অবসান ঘটাতে অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট চেষ্টা করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ও ইসরায়েলের পাল্টা হামলা শুরুর পর টানা দুই বছর নৃশংস হত্যাকাণ্ড চলেছে গাজায়। অবশেষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সফলতার মুখ দেখলেন। তাঁর প্রচেষ্টায় গাজায় শান্তিচুক্তি করা সম্ভব হয়েছে। হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে সমঝোতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। আশা করা হচ্ছে, এই শান্তি প্রক্রিয়া একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও উন্মোচন করবে। ১৯৯৩১৯৯৫ সালের অসলো শান্তিচুক্তির পর এটি হবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সেরা সুযোগ। দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

অসলো-১ চুক্তি ছিল গোপন আলোচনার ফল, যাতে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) ও ইসরায়েল পরস্পরকে স্বীকৃতি দেয়। পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য একটি কাঠামো নির্ধারণ করে। আর অসলো-২ চুক্তি ফিলিস্তিনি শাসনকে আরও সম্প্রসারণ করে এবং পশ্চিম তীরকে তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করে।

এবারের চুক্তি অসলো চুক্তির পদ্ধতি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এই চুক্তির ফলে মানচিত্র ও দুটি রাষ্ট্রের কাল্পনিক সাংবিধানিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। চুক্তিটি একটি বাস্তব পদ্ধতির প্রতিশ্রুতি দেয়, যেখানে গাজা শাসিত হবে একটি নতুন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এবং বিধ্বস্ত গাজা পুনর্নির্মাণ করা হবে। গাজার আধিপত্য বিস্তারকারী হামাসের কোনো ক্ষমতা থাকবে না, পাশাপাশি ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিরা একে অপরকে ধ্বংস করার পরিবর্তে সহাবস্থানে থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে। সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে একটি শান্তিপূর্ণ গাজার পুনর্গঠনে যুক্ত হতে যাচ্ছে।  

ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অধীনে পরবর্তী ধাপে একটি টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন করা হবে, যা হামাসকে ক্ষমতা থেকে বাদ দিয়ে গাজা পুনর্গঠন করবে। হামাসকে নিরস্ত্র করা হবে এবং আন্তর্জাতিক বাহিনী দ্বারা নিরাপত্তা দেওয়া হবে। নতুন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত ট্রাম্প একটি তদারকি বোর্ডের নেতৃত্ব দেবেন। ট্রাম্প এটাকেই ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চলের মধ্যে ‘চিরস্থায়ী শান্তি’ বলেছেন।

তবে স্থায়ী শান্তির পথে এখনও নানা বাধা রয়েছে। সেগুলো আরও জটিল হতে পারে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে এখনও উভয় পক্ষকে আলোচনা করতে হবে। মতপার্থক্য দূর করতে হবে। এক্ষেত্রে শান্তির অগ্রগতি নষ্ট করতে ইচ্ছাকৃত নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড ঘটে যেতে পারে। এমনকি গাজার পুনর্গঠন আটকে যেতে পারে, যেখানে ৭৮ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপত্যকাটিতে সামান্য শিল্পই এখন অবশিষ্ট রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফিলিস্তিনিরা বারবার বিশ্বাস ভঙ্গের শিকার হয়েছেন। তারা শান্তির যে কোনো সম্ভাবনার ওপর আস্থা হারিয়েছেন।

অন্যদিকে ট্রাম্পের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হলে ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি জোট ক্ষমতায় নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ তাঁর জোট ব্যর্থ হলে তিনি আর প্রধানমন্ত্রী নাও থাকতে পারেন। 
তবে আশার অনেক কারণ রয়েছে। যুদ্ধের সমাপ্তি উভয় পক্ষের নেতৃত্ব পরিবর্তনের সূত্রপাত করতে পারে। হামাসকে গাজার সরকার ত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে। ইসরায়েলকে ১২ মাসের মধ্যে একটি নির্বাচন করতে হবে, এতে নেতানিয়াহু পদত্যাগ করতে পারেন।

গাজা পুনর্গঠন করতে গিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের নতুন অর্থনৈতিক সম্পর্ক তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করবে। সিরিয়া ও লেবাননের সঙ্গেও ফিলিস্তিনি নেতাদের নতুন সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। তবে কারও ভাবা উচিত নয়, এই কাজগুলো সহজ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *